আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবা বিক্রি করে থাকেন, তবে এই টুলসগুলো অবশ্যই ব্যবসার শুরু থেকেই ব্যবহার করা উচিৎ। এই খাতে যেহেতু দিন দিন প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে, তাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এবং ক্রেতা বৃদ্ধিতে বা ফিরিয়ে আনতে এই টুলসগুলো আপনার খুব কাজে আসবে।

ক্রেতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আমাদের পূর্বের আর্টিকেলটি পড়ুনঃ প্রিয় ক্রেতা, আপনারা কোথায়?

 

১। Google Webmaster Tools

 

আজকাল কোন কিছু কেনার আগে অবশ্যই একবার হলেও আমরা গুগলের দ্বারস্থ হই পণ্যটি সম্পর্কে খোঁজ করার জন্য। এখন সেই পণ্যের সার্চ রেজাল্টে আপনি যদি প্রথম দিকে থাকতে পারেন তবে সেই ক্রেতার আপনার সাইটে ভিজিট করার সম্ভবনা খুবই বেশি এবং বিক্রি হওয়ার সম্ভবনাও বেশি থাকে অন্যদের চেয়ে। সার্চ রেজাল্টে প্রথম দিকে আসার জন্য যে কাজ করা হয় তা হচ্ছে SEO (Search Engine Optimization).

SEO বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তবে SEO এর প্রথম ধাপ হচ্ছে GOOGLE কে আপনার সাইট সম্পর্কে জানানো। আর এজন্য প্রয়োজন হয় Google Webmaster Tools এর। এর মাধ্যমে আপনি আপনার সাইট গুগলে সাবমিট করতে পারবেন, সাইটের SEO সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জানতে পারবেন, কোন কোন কি-ওয়ার্ডের জন্য সার্চ ইঞ্জিনে আপনার অবস্থান কেমন সে সমস্ত বিষয়গুলো জানতে পারবেন। Google Webmasters ছাড়াও Bing Webmasters এ আপনার সাইট সাবমিট করতে পারেন। Bing ও মোটামুটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।

Google Webmasters এ কিভাবে আপনার সাইট সাবমিট করবেন তা জানতে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

 

 

২। Google Analytics

 

এই বছরের শুরুর দিকে একটি ওয়ার্কশপে যোগ দিয়েছিলাম, যেটি ছিল মূলত ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য। ওয়ার্কশপটি চলাকালীন একজন বক্তা প্রশ্ন করেছিলেন , আপনাদের মধ্যে ওয়েবসাইট আছে কাদের? হাত উঠিয়েছিল মোট ৮০-৯০ জনের মত। তিনি যখন আবার প্রশ্ন করলেন কতজন তাদের সাইটে Google Analytics ব্যবহার করেন, তখন হাত উঠিয়েছিল ৩-৪ জন। আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম এটি দেখে।

আপনার ওয়েবসাইট আছে অথচ আপনি জানেন না প্রতিদিন কতজন আমার সাইটে ভিজিট করছে, কোন কোন পেইজে যাচ্ছে, কত সময় তারা আমার সাইটে থাকছে, কোন কোন মাধ্যম থেকে ভিজিটর আসছে, তাহলে ওয়েবসাইট থেকে কোন ভাল ফলাফল কখনই পাবেন না। Analytics ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই আপনার সাইটের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

সাইটে কিভাবে Google Analytics যোগ করবেন তা জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।

 

৩। Pingdom

 

Pingdom হচ্ছে ওয়েবসাইটের পারফর্মেন্স এর ওপর নজর রাখার টুল। ই-কমার্স সাইট দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকা প্রয়োজন। নাহলে আপনি ক্রেতা এবং মুনাফা দুটোই হারাবেন। Pingdom-এ রেজিস্ট্রেশন করে আপনার সাইট লিঙ্ক যোগ করে দিলেই ওরা আপনার হয়ে আপনার সাইটের ওপর নজর রাখবে।

সাইট কোন কারণে অফলাইনে চলে গেলে সাথে সাথে মেসেজ বা ই-মেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানাবে। এর ফলে আপনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এছাড়া আপনার সাইটের লোডিং স্পিড বা আরো কিছু বিষয়ে তথ্য পাবেন Pingdom থেকে।

 

৪। Live Chat

 

ই-কমার্স ব্যবসায় কাস্টমার সাপোর্ট বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত ভাল সেবা আপনার ক্রেতাকে দিতে পারবেন, তত বেশি মুনাফা দিন শেষে ঘরে নিতে পারবেন।

সাধারণত কোন দোকানে বিক্রয়কর্মীরা যেভাবে ক্রেতাকে কোন পণ্য পছন্দ করতে বা কিনতে সাহায্য করে, Live Chat সফটওয়্যারগুলো ঠিক সেই সুযোগ আপনাকে করে দেয়। ক্রেতা আপনার সাইটের কোন পেইজে আছে, কোন পণ্য দেখছে, তার অবস্থান কোথায় এরকম অনেক তথ্য দেখার পাশাপাশি আপনি রিয়াল টাইম চ্যাট করতে পারবেন আপনার ক্রেতার সাথে এই সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে। এর ফলে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট অনেক বাড়ে সেই সাথে বিক্রি বৃদ্ধির সম্ভবনাও।

বাংলাদেশে লাইভ চ্যাট সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে Reve Chat সবচেয়ে জনপ্রিয়। ফ্রি সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে Zendesk Chat বেশ ভাল। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার সাইটে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার যোগ করতে পারবেন লাইভ সফটওয়্যারের পরিবর্তে। অনেক ক্রেতাই এটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

 

৫। MailChimp

 

ই-মেইল মার্কেটিং সফটওয়্যার না বলে MailChimp এর নাম নির্দিষ্ট করে বলার কারণ এটি প্রচুর ফিচার সমৃদ্ধ এবং ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি আপনার সাইটের ভিজিটরদের বিভিন্ন ডাটা যেমন, নাম, ই-মেইল, তাদের ইন্টারেস্ট এসব কালেক্ট করতে পারবেন এবং সেসব অনুযায়ী বিভিন্ন সময় নানা প্রমোশনাল ই-মেইল পাঠাতে পারবেন। এর ফলে একবার সাইট ভিজিট করেই বা কেনাকাটা করেই তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে না এবং তাদের পুনরায় আপনার সাইটে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এছাড়া এটি দিয়ে চাইলে মোবাইল নম্বরও কালেক্ট করতে পারবেন।

নিচের ভিডিওটিতে MailChimp এর A-Z ওভারভিউ পেয়ে যাবেন।

 

 

৬। Buffer

 

ই-কমার্স ব্যবসার প্রসারে সোশ্যাল মিডিয়া বিরাট ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে আমাদের দেশে তো সোশ্যাল মিডিয়াতেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। কিন্তু নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া পেইজগুলো আপডেট করা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং ঝামেলার কাজ।

Buffer এক্ষেত্রে আপনাকে খুব সাহায্য করতে পারে। এটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া অটোমেশন টুল। তার মানে আপনি এক ক্লিকেই আপনার সকল সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে কোন কিছু শেয়ার করতে পারবেন। এছাড়া পোস্ট শিডিউল করে রাখতে পারবেন। আপনার ঠিক করে দেয়া সময়ে নির্দিষ্ট পোস্টটি আপনার পেইজে শেয়ার হয়ে যাবে। এই টুল ব্যবহার করে বারবার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে লগিনের ঝামেলা পোহাতে হবে না। পেইজ আপডেট করার চিন্তাও করতে হবে না।

 

৭। Facebook Pixel

 

খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট পেইজ ভিজিট করে আসার পর ফেসবুকে প্রবেশ করলেই সেই সাইটের অ্যাড দেখতে পান। এটি করা হয় Facebook Pixel এর মাধ্যমে। এই Pixel হচ্ছে একটি স্ক্রিপ্ট যা আপনার সম্পূর্ণ সাইটে বা নির্দিষ্ট পেইজে বসিয়ে আপনি আপনার ভিজিটরদের ফেসবুকের মাধ্যমে টার্গেট করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটে সাধারণত বিভিন্ন লিড কালেক্ট করার ব্যবস্থা থাকলেও ভিজিটরদের ৫০% এর ডাটাও কালেক্ট করা সম্ভব হয়না। কিন্তু এই Pixel এর হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। যেহেতু আপনার সাইটের ভিজিটর ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সেহেতু চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় সে ফেসবুক ব্যবহার করবেই। সুতরাং Facebook Pixel ব্যবহার করে আপনি ২য়, ৩য় যতবার ইচ্ছা তার কাছ পৌঁছে যেতে পারবেন। আর যেহেতু তারা ইতোমধ্যে আপনার পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে জানে, সেহেতু তাদের কনভার্ট করা অনেক সহজ হবে তা বলাই বাহুল্য।

ইদানিং অনেকের কাছেই শোনা যায় ফেসবুক অ্যাড দিয়ে বিক্রি হচ্ছে না। আজ থেকেই Facebook Pixel ব্যবহার করা শুরু করুন। হাতেনাতে ফল পাবেন।

নিচের ভিডিও থেকে জানতে পারবেন কিভাবে আপনার সাইটে Pixel বসাবেন এবং কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করবেন।

 

 

৮। Adwords Retargeting

 

Adwords গুগলের একটি সার্ভিস। Facebook Pixel এবং Adwords Retargeting একই ভাবে কাজ করে। পার্থক্য হচ্ছে Facebook Pixel কাজ করে শুধুমাত্র ফেসবুকেই, কিন্তু Adwords Retargeting এর মাধ্যমে আপনি ছড়িয়ে যেতে পারবেন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে।

আমরা সকলেই জানি গুগলের রয়েছে এক বিশাল ডিসপ্লে অ্যাড নেটওয়ার্ক এবং প্রচুর সংখ্যক ওয়েবসাইট, ব্লগ এই নেটওয়ার্কের সদস্য। তার মানে তারা গুগলের অ্যাড তাদের সাইটে পাব্লিস করে।

আপনি যদি আপনার সাইটে Retargeting Tag যোগ করেন, তবে আপনার প্রত্যেক ভিজিটরকে তারা ট্র্যাক করবে। এরপর আপনি যখনই তাদের টার্গেট করে কোন অ্যাড দেবেন, তারা যে সাইটই ভিজিট করুক না কেন সাইটটি যদি গুগল নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হয় তবে আপনার অ্যাড সেই সাইটে দেখতে পাবে।

এটি ফেসবুক পিক্সেলের চেয়ে কার্যকরী হলেও, খরচ অনেক বেশি হওয়ায় Facebook Pixel-ই ছোট বা মাঝারী উদ্যোক্তাদের ভরসা।

 

এর বাইরেও আপনার ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য উপকারী প্রচুর টুল রয়েছে। তবে এই টুলগুলো ব্যবহার করলে খুব স্বল্প সময়ে ভাল ফল পাবেন।

 

আমাদের সম্পর্কেঃ

OfferAge.com হচ্ছে অন্য ধারার এক মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম। আমরা অফার মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার সাইটের ভিজিটর, লিড অথবা অফলাইন স্টোরের ক্রেতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকি।

অফার মার্কেটিং কিভাবে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে তার বিস্তারিত জানুন এখানে

 

 

ধন্যবাদ সবাইকে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আশাকরি এটি কিছুটা হলেও আপনার অনলাইন ব্যবসায় পজেটিভ ইফেক্ট ফেলবে। শুভ কামনা রইল সবার জন্য। 🙂

মোঃ ফাইজুল কবীর,

টিম লিড, OfferAge.com.

One thought on “ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য এই ৮ টি টুলস প্রথম দিন থেকেই ব্যবহার করা আবশ্যক”

Ash Ome

One more tools should be listed that is Google Tag Manager 😉

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 − 3 =